ঢাকা, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০১৯ ০৩:৪৪

বন্যায় দেশের ১২ জেলায় শিশু ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট

অনলাইন ডেস্ক

বন্যায় দেশের ১২ জেলায় শিশু ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট

বন্যা আক্রান্ত ২৮ জেলার মধ্যে ১২টিতে শিশু ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট মোকাবেলায় সরকার বিশেষ বরাদ্দ দিলেও তিন দিনেও তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছেনি। আবার যেটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা-ও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যায় দেশের ১২ জেলায় শিশু ও গোখাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোখাদ্যের সংকট প্রকট। এই জেলাগুলোতে শিশুখাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য ১৬ লাখ টাকা করে মোট ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো টাঙ্গাইল, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার।

জেলাগুলোতে শিশুখাদ্য হিসেবে খেজুর, বিস্কুট, ফর্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, সুজি, মসুর ডাল, ফর্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফাইড ট্যাবলেট, বাদাম ও রেডিমেড ফুড স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গোখাদ্য হিসেবে ভুসি, খৈল, চালের কুড়া, চিটাগুড় ও খড় স্থানীয়ভাবে কিনে তা বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা হিসাব করে জেলাভিত্তিক সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (ত্রাণ) ইফতেখারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় শিশু ও গোখাদ্যের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তা পৌঁছানো হবে।

বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বন্যার পানিতে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় জেলার শত শত গৃহস্থ পরিবার গবাদিপশু নিয়ে সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার খামারি ও কৃষকরা কোরবানির হাটের জন্য লালন-পালন করা গরু আগেভাগেই বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ একে তো বন্যার পানিতে গরু রাখার জায়গা নেই। তার ওপর গোখাদ্যের তীব্র সংকট। তবে গতকাল পর্যন্ত জেলায় সরকারি পর্যায়ে বরাদ্দ হওয়া গোখাদ্য বিতরণ শুরু হয়নি।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলায় প্রায় দুই লাখ পরিবার বন্যা আক্রান্ত। গতকাল পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে সাত হাজার প্যাকেট। শিশুখাদ্য হিসেবে শুধু বিস্কুট বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে বন্যার্তদের বড় অংশই কোনো ধরনের ত্রাণ পায়নি। আর গোখাদ্য বিতরণ শুরুই হয়নি।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, চলতি বন্যায় জেলায় তিন হাজার ২৩০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ধানের বীজতলা, মরিচ, করলা, পটোল, ঝিঙেসহ বিভিন্ন ফসল। রানীনগরের মালঞ্জি গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ফসলি জমি থেকে বন্যার পানি সরতে বিলম্ব হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না। আবার নিমজ্জিত মরিচের ক্ষেত থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই সব গাছ মরে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় যেসব বীজতলা ও ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে তার প্রায় অর্ধেকই ধানের। এর ফলে আমন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যায় বীজতলা নষ্ট ও ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় বন্যাকবলিত ২৮ জেলায় আমন চাষ পিছিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে বোরো ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়েছে কৃষকরা। এবার আমন নিয়েও ক্ষতির মুখে পড়ছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৮ জেলায় চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত সোয়া লাখ হেক্টর ফসলি জমির আমন বীজতলা ও শাকসবজির শতভাগ নষ্ট হয়েছে। এ বছর সারা দেশে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বন্যা প্লাবিত এলাকায় ছিল ৯২ হাজার ৩০১ হেক্টর। ১৩ হাজার ৪৪৬ হেক্টরের বীজতলা এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে বন্যার কারণে।

বন্যা প্লাবিত এলাকায় এবার শাকসবজির আবাদ করা হয় ৮৬ হাজার ৮১ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পানিতে ডুবে পচে নষ্ট হয়ে গেছে ১৩ হাজার ৩১৩ হেক্টরের সবজি। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার হেক্টরের মরিচ ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে এক লাখ ৮৪ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমির পাটের মধ্যে ৩৮ হাজার ১৩৩ হেক্টরের ফসল নিমজ্জিত থাকায় এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। এসব জমির পাটের গুণগত মান তুলনামূলক খারাপ হবে।

এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) কৃষিবিদ আব্দুল মুঈদ বলেন, দ্রুত পানি না নামায় এ বছর বন্যার ক্ষতি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরই মধ্যে প্লাবিত এলাকাসহ সারা দেশেই আমন ও শাকসবজি আবাদ বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রতিটি উপজেলায় এক শ ভাসমান ও আপৎকালীন বীজতলা তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ

এই বিভাগের আরও খবর