ঢাকা, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ আগষ্ট, ২০২১ ০৮:৩৫

অনুসন্ধান-তদন্ত বন্ধ দেড় বছর!

অনলাইন ডেস্ক

অনুসন্ধান-তদন্ত বন্ধ দেড় বছর!

দেড় বছর ধরে অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ একরকম বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায়। এ সংক্রান্ত তদন্তকাজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না তদন্ত কর্মকর্তাদের। এ সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিবেদনও দিতে পারেনি তারা। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন করোনাকালীন সীমাবদ্ধতা ও লোকবল সংকটের কথা। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো ঘটনায় ৩ হাজার ৮৩৯ জনের বিরুদ্ধে ৭৭৮টি অভিযোগ জমা পড়েছিল এই সংস্থায়। গত ১১ বছরে মাত্র ৭৮টির তদন্ত শেষ করতে পেরেছে সংস্থাটি। আর একই সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ঢাকার পুরাতন হাই কোর্ট ভবনে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে ৪২টি মামলায়।

তদন্ত না হওয়া ৭০০ অভিযোগের বিষয়ে সংস্থার সংশ্লিষ্টরা জানান, মুজিববর্ষ সামনে রেখে একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নেওয়া হয়েছিল। যার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে অন্তত ৫০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করার একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছর মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ায় তা আর এগোয়নি। তবে শিগগিরই দুটি অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, বর্তমানে যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে আগামী ১০ বছরেও এই ৭০০ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। একদিকে ট্রাইব্যুনালের লোকবল সংকট, অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তির গতিও একটি কারণ। এ ছাড়া করোনার প্রভাব তো রয়েছেই। সূত্রটি জানায়, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গড়ে চার থেকে পাঁচটি রায় হয় বছরে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা নিষ্পত্তিতেই কয়েক বছর চলে যাবে। বাকিগুলোর তদন্ত শেষে বিচার বহুদূর। জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম সানাউল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তদন্তকাজে বিলম্বের পেছনে মূলত লোকবল সংকট দায়ী। সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তার পদ ৩০টি। এখানে কাজ করছেন মাত্র ১০ জন। সহযোগিতায় যারা কাজ করেন, সেখানেও পর্যাপ্ত জনবল নেই। তিনি বলেন, গত বছর করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে আমরা সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে পেরেছিলাম। এরপর করোনার কারণে দফায় দফায় বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় আমাদের কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তাই তদন্তাধীন থাকা অভিযোগগুলোরও প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি খুব শিগগিরই দুটি অভিযোগের প্রতিবেদন দিতে পারব। তিনি বলেন, শুরু থেকে যেসব অভিযোগ এসেছে তার সব যে মামলা এবং অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা হবে বিষয়টি এমন নয়। কিছু নামের অস্তিত্ব নেই। কেউ কেউ মারা গেছেন। কিছু অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ক্রাশ প্রোগ্রামটা বাস্তবায়ন করতে পারলে সংস্থার কাজ অনেক দূর এগিয়ে যেত বলেও মনে করেন সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়ক।