ঢাকা, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৭:৫৭

বিশ্বে প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভাষা!

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বে প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভাষা!

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অন্তত তিন হাজার জীবন্ত মাতৃভাষা। এসব ভাষায় কথা বলে অসংখ্য মানুষ। তবে এসব ভাষার অস্তিত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। নতুন কোনো মাতৃভাষার জন্ম তো হচ্ছেই না বরং প্রতিবছরই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে অনেক মাতৃভাষা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় দুইশ মাতৃভাষার মৃত্যু হচ্ছে। এ হিসেবে প্রতি দুই দিন অর্থাৎ প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় একটি করে মাতৃভাষার মৃত্যু হচ্ছে। এসব ভাষাভাষী মানুষও অন্যভাষা গ্রহণ করায় অপেক্ষাকৃত অপ্রচলিত ভাষার বিলুপ্তি হচ্ছে। বিশ্বে মোট ভাষার সংখ্যা ৬ থেকে ৭ হাজার। তবে ইতোমধ্যেই প্রায় দেড় হাজার ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শুধু ভারতেই গেল ৫০ বছরে লোপ পেয়েছে দু’শতাধিক ভাষা।

বছর চারেক ব্যাপী চালানো এক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, জীবিকার সন্ধানে মানুষের শহরে গমন এবং যাযাবর উপজাতি লোকদের মধ্যে তাদের ঐতিহ্যগত ভাষায় কথা বলার শঙ্কাই এর জন্য দায়ী। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে ২শ ৩০টি ভাষা লোপ পেয়েছে। বিচিত্র ও দ্রুত আধুনিকায়নসমৃদ্ধ ভারতে সময়ের আবর্তে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮শ ৭০টি ভাষা। ভারতে এখনও ৪শ ৮০টি ভাষায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কথা বলে। বিলুপ্ত প্রায় ১০টি ভাষার দলিল প্রমাণাদি পরীক্ষা করে দেখা গেছে এগুলোর মধ্যে রয়েছে লোকগীতি ও গল্প।

মাতৃভাষা অর্জন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং ভাষাবিজ্ঞানী এর প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি জানতে পারেননি। ছোট শিশুদের মধ্যে প্রবৃত্তিগতভাবেই কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা তাদের শিশু বয়সেই মাতৃভাষা অর্জনের উপযোগী করে তোলে। এই বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে আছে বাগনালীর গঠন, যার মাধ্যমে শিশু তার মাতৃভাষার বিভিন্ন শব্দ উৎপাদন করে। এছাড়া শিশুদের সাধারণ ব্যাকরণিক মূলনীতিগুলি এবং বাক্যগঠনের স্তরগুলি বোঝার ক্ষমতা থাকে। শিশুরা কোনো নির্দিষ্ট ভাষা শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হয় না। বরং যে ভাষা তাদের আশপাশে বলা হয়, তারা সেই ভাষাই শিখে ফেলে, এমনকি যদি তাদের পিতামাতা অন্য কোনো ভাষাতে কথা বলে, তা হলেও। প্রাথমিক ভাষা অর্জনের একটি কৌতূহলোদ্দীপক বৈশিষ্ট্য হল শিশুরা প্রথম প্রথম বাক্যের গঠনের চেয়ে অর্থের উপর বেশি জোর দেয়। যেই পর্যায়ে তারা সচেতনভাবে সুসংগঠিত বাক্য বলতে আরম্ভ করে, সেই পর্যায়েই মনুষ্য শিশুরা ভাষিক দক্ষতায় পশু-পাখি-মাছ জাতীয় প্রাণীদের ছাড়িয়ে যায়।

মূলত, সভ্যতার আলো যতোই প্রসারিত হচ্ছে নানা জাতি গোষ্ঠী বা উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের জীবিকা বা কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে ততোই শহরে ভিড় করছে। এদের মাতৃভাষাই দিন দিন লোপ পাচ্ছে। বিশেষ করে যাযাবর জনগোষ্ঠী এবং পাহাড় বা বনাঞ্চল থেকে শহরে চলে আসা উপজাতীয় নৃগোষ্ঠীর ভাষা এর বেশি শিকার। যাযাবররা তাদের জীবনপদ্ধতি ত্যাগ করে শহরে আশ্রয় নিয়ে শহরের মূলধারা থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের নিজস্ব সামাজিক আচার ও সংস্কৃতি এবং ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।